• শনিবার, ০৩ জুন ২০২৩, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

হরিনাকুন্ডুতে অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে হাজার হাজার মন কাঠ,পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

Reporter Name / ১২২ Time View
আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

হরিনাকুন্ডুতে অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে হাজার হাজার মন কাঠ,পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

সুলতান আল একরাম,ঝিনাইদহঃ
ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে ১৭ টি ইটভাটা,যার মধ্যে প্রায় ১৫টি অবৈধ। এই সব ভাটায় প্রতিদিন পুড়ছে হাজার হাজার মন কাঠ।আবাসিক পরিবেশ দূষন সহ ফসলী জমিতে গড়ে ওঠা ভাটাসমূহে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। নেই কনো লাইসেন্স। সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্সের ধার না ধেরে উপজেলায় চলছে প্রায় দের ডজন অবৈধ ইটভাটা।সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোকালয়ে ও কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে এইসব ইটভাটাগুলো। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ইং অনুযায়ী,আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির এক কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন নিষিদ্ধ। যেখানে ১২০ ফিট গাথুনি চিমনী থাকার কথা সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ফিট টিনের ড্রাম চিমনীর মাধ্যমে ধোয়া উড়িয়ে পরিবেশের বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে।এছাড়াও ইটের সঠিক মাপ থাকার কথা ১০-৫-৩ ইঞ্চি।সেখানে ৮ থেকে ৯ ইঞ্চির বেশি পাওয়া যায় না। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ১৭টি ভাটার সবকটির বেশির ভাগ ইটভাটা জনবসতি এলাকায় এবং কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠেছে।এই সব ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে সরকারের ভ্যাট ও ট্যাক্স না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।শ্রমিকরা জানান,এক একটি ভাটায় প্রতিদিন কাঠ পুড়ানো হয় প্রায় ৩শ থেকে ৪শ মন। সব ভাটায় কাঠ পুড়ানো হয় প্রায় ৬হাজার মন। ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে পান ক্ষেত,কলাবাগান, কফিক্ষেত,মটরক্ষেত,বেগুনক্ষেত,ধানক্ষেত ইত্যাদি।আর ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতি। স্থানীয় বসতিরা জানান,দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারী অনুমোদন ছাড়াই লোকালয় ও আবাদি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ইটভাটার মালিকরা বলেন,১৬ই ডিসেম্বর,২৬শে মার্চ,২১শে ফেব্রুয়ারি সহ বিভিন্ন কমসূচির চাঁদাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তারা এসব ইটভাটা চালাচ্ছেন।

হরিনাকুন্ডু,ঝিনাইদহ কে ভ্যাট-ট্যাক্স-পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে চাইলে বলেন,আমি গত তিন বছর থেকে (০৭-০২-২০০২ইং)পর্যন্ত টিনের ড্রাম চিমনী (৫০-৬০ফিট)দিয়ে ইটভাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছি, ভাই ভাই ব্রিকস, জেসমিন ও মামা ভাগ্নে ব্রিকস ইটভাটা। ঝিনাইদহের মিঠু ভাইয়ের ইটভাটার সমিতি ও হরিনাকুন্ডু প্রশাসনের সহযোগিতাই। কোন ভ্যাট-ট্যাক্স-পরিবেশ ছাড়পত্র –লাইসেন্স নাই কৃষকরা জানান,কৃষিজমির পাশে এইসব ইটভাটা স্থাপন করায় তাদের ফসলের ক্ষতি হয়।ইটভাটার মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না। কৃষকদের এই সব অভিযোগ সঠিক হিসেবে উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন,ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করায় ফসলের উৎপাদন কম হয়। ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে এইসব বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিৎ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Ads 1